“আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুর দরবার শরীফ” এর নামে মিথ্যা অপপ্রচার করে দরবারের সুনাম সুখ্যাতিকে নষ্ট করার হীন প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, কোনো এক নিউইয়র্ক প্রবাসী বক্তা যুগের শ্রেষ্ঠ দা’ঈ মুফতি ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী (হাফি) এর কয়েক বছর আগের এডিটিং করা একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং দরবার শরীফের নামে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য দিয়ে আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুর দরবার শরীফের শত বছরের সুনাম সুখ্যাতিকে ক্ষুণ্ন করার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে; যা ইতোমধ্যেই ইসলামী গবেষণা পরিষদ বাংলাদেশ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জানা যায়, এডিটিং করা ভিডিও দিয়ে প্রতারণামূলকভাবে আব্বাসী হুজুরকে বক্তব্য প্রত্যাহারের মতো অবৈধ নির্দেশ দেয়ায় সিলেট এলাকায় আব্বাসী হুজুরের ভক্ত মুরিদদের সাথে তর্কে জড়ান সেই আমেরিকান বক্তা; যা খুবই দুঃখজনক বিষয়।
জানা যায়, ৫ই আগষ্টের পর থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশী বিদেশী অনেক এজেন্ট-ই দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে। তো সারাদেশ যখন আল্লামা আব্বাসী (হাফি) কে মাথায় করে রাখছে, নাস্তিক ও শাহবাগীদের বিরুদ্ধে দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো যিনি ভূমিকা পালন করছেন; জাতির এই সংকটকালীন মুহূর্তে এমন দা’ঈর কয়েক বছর আগের তাও আবার এডিটিং করা ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা ভারতীয় কিংবা মার্কিন এজেন্ডার অংশ কিনা; সেটাই ভেবে দেখার বিষয়।
মূল আলোচনা: যে ভিডিওটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, সেই ভিডিওটি অনেক বছর আগের এবং এডিটিং করা। একটি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে আব্বাসী হুজুর সংক্ষেপে একটি বিষয়ের জবাব দেন। যদিও পরবর্তীতে আজ থেকে আরও ৪ বছর আগেই সেই একই বিষয়ে ডকুমেন্টারি করে চূড়ান্ত বক্তব্য দিয়েছেন ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী (হাফি)। আমেরিকান বক্তার দাবী, বহু বছর আগের করা সেই ভিডিওতে একটি তথ্য ভুল ছিলো।
আমরা বিশ্বাস করি, কোনো মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নন। সেই আমেরিকান বক্তাও আব্বাসী হুজুরের বিরুদ্ধে করা ১০ মিনিটের লাইভে তাজবীদে এমন একটি ভুল করেছেন; যা একজন মক্তবের ছাত্রদের কাছেও কাম্য নয়। তেমনি শাইখ আব্বাসী (হাফি)ও ভুল করতে পারেন; হাজারো খেদমাতের মাঝে মাত্র ২/১ টি ভুল হওয়া উনার গ্রহনযোগ্যতা’ই প্রমাণ করে। যদিওবা অরিজিনাল ভিডিও পাওয়ার আগ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না; যেহেতু সুবিধাবাদী মহল পূর্ণাঙ্গ ভিডিও থেকে অনেক কথাই কেটে অপরিপূর্ণ ভিডিও আপলোড করেছে; কেবল ফিতনা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে। পরপর কয়েকটি লাইভ ও পোস্টে সেই আমেরিকান বক্তা আল্লামা আব্বাসী (হাফি) এর বিরোধিতা করতে যেয়ে কয়েকটি বড় ধরনের মিথ্যাচার করেছেন; যা খুবই দুঃখজনক। ইনবক্সে উনার ভুলগুলো সংশোধন করিয়ে দিতে এবং সিলেট এলাকার তাহরীকের কর্মীদের সাথে উনার চলমান দ্বন্দ নিরসনে ইসলামী গবেষণা পরিষদ বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে উনার সাথে যোগাযোগ করা হলে দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা উনি একটি ফোন কলও রিসিভ করেন নি। পরবর্তীতে মেসেজের মাধ্যমে জানান, উনি এই বিষয়ে কথা বলতে চান না।
থেকে উনার উদ্দেশ্য স্পষ্ট; সমাধান কিংবা সংশোধন নয়; বরং ফিতনা ছড়ানো পর্যন্তই ছিলো মাকসাদ। উনার জায়গা থেকে উনি সফল। একটু ভাবুন তো, ১ দিন পূর্বে সিলেট এলাকায় আব্বাসী হুজুরের এক সাধারণ ভক্তের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে উনি লাইভে চলে আসলেন। অথচ, অফিসিয়ালি যোগাযোগ করার পর এড়িয়ে গেলেন। বিষয়টি কি প্রমাণ করে? তা পাঠকদের কাছেই প্রশ্ন রাখলাম।
উনার করা মিথ্যাচার গুলো তুলে ধরছিঃ-
• মিথ্যাচারঃ- ০১
উনার দাবী, চাঁদের (স্থানের ভিন্নতা) মাসয়ালায় আব্বাসী হুজুর ফাতোয়ায়ে শামী থেকে সাহেবাইনের মত উল্লেখ করেছেন। যা তিনি পোস্টে লিখেছেন, ❝সাহেবাইনের নামে দেয়া বক্তব্য ফাতোয়ায়ে শামী’তে পেলাম না❞
√ জবাবঃ-
এই দাবীটি মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। শাইখ আব্বাসী (হাফি) এটা বলেন নি যে, সাহেবাইনের মত ফাতোয়ায়ে শামী’তে আছে। বরং, শাইখ আব্বাসী (হাফি) বলেছেন, مَطْلِعْ শব্দটির ব্যাপারে ফাতোয়ায়ে শামীতে এসেছে, بكسر اللام ‘আর কুরআনুল কারীমেও উদয়ের স্থান বলতে مَطْلِعْ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
আসলে প্রচণ্ড আক্রোশের বশবর্তী হয়ে আমেরিকান বক্তা এক কথাকে আরেক কথার সাথে মিলিয়ে ফেলেছেন। আমরা আশাবাদী, তিনি তার আপলোড করা ভিডিওটি ভালো করে আবার দেখবেন, নিজের ভুল স্বীকার করে একজন সুনামধন্য আলেম ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী (হাফি) এর নামে মিথ্যাচার করে মানহানী করার দায়ে উনার কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং পোস্ট গুলো ডিলিট করে দিবেন।
• মিথ্যাচারঃ- ০২
উনার দাবী, আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুর দরবার শরীফ থেকে উনাকে ধমক স্বরুপ থামতে বলা হয়েছে। নতুবা দ্বন্দ বাড়ার হুমকি রয়েছে। যা উনি উনার পোস্টে লিখেছেন, ❝ দরবার থেকে আমাকে চুপ থাকতে বলা হয়েছে, নতুবা দ্বন্দ্ব বাড়বে! মানে! আবার নাস্তিকদের কথা বলে সুযোগ নিতে চান! ❞
√ জবাবঃ-
আমরা রীতিমতো হতবাক তার এরকম জঘন্য মিথ্যাচার দেখে। আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুরী দরবার শরীফের কেউ তাকে এরকম কোনো মেসেজ দেয় নি, এটা আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। বরং আমাদের ধারণা, বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর না হওয়ায়, বিষয়টি আরও বাড়ানোর জন্য সে নিজেই এই নাটক সাজিয়েছে। তার যদি সেই সৎসাহস থাকে, তবে সে প্রমাণ করুক; আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুর দরবার থেকে তাকে চুপ থাকতে বলা হয়েছে। [আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুর দরবার শরীফের অফিসিয়াল সকল কন্ট্যাক্ট ইনফু সংরক্ষিত] আর যদি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে অবশ্যই উপমহাদেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক দরবার আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুর দরবার শরীফের নামে মিথ্যাচার করে দরবারের সুনামকে ক্ষুণ্ন করতে চাওয়ার হীন প্রচেষ্টার দায়ে তাকে লাইভে এসে ক্ষমা চাইতে হবে এবং দরবার শরীফের নামে দেয়া ভিত্তিহীন ও মিথ্যা সংবলিত পোস্ট ডিলিট করতে হবে।
লেখা দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশংকায় তার করা আরও কিছু মিথ্যাচার আমরা উল্লেখ করছি না। উল্লেখিত দুইটির জন্য ক্ষমা না চাইলে সামনে পর্বাকারে আসবে ইনশাআল্লাহ।
আমরা আশাবাদী, অতি শীগ্রই তিনি উনার ভুলগুলো বুঝতে পারবেন এবং সংশোধিত হবেন। আমরা সকলের কল্যাণকামী, কাউকে দূরে সরানো আমাদের লক্ষ্য নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিন। হিংসাত্মক মনোভাব পরিহার করার তাওফিক দিন। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল আগ্রাসনকে রুখে দিয়ে শরীয়া আইন বাস্তবায়নের পথে অগ্রগামী হওয়ার তাওফিক দিন।
আমীন।
ইসলামী গবেষণা পরিষদ বাংলাদেশ
১৫ মার্চ, ২০২৫ ইং; রোজ: শনিবার।